রামকোট বিহার (পাঠ : ৪)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান | NCTB BOOK
232

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় রামকোট বিহার অবস্থিত। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার প্রধান সড়কের প্রায় দু'ই মাইল পূর্বে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে ছোট ছোট পাহাড়ে ঘেরা বিহারটি দেখতে খুবই সুন্দর। বিহারের ফটকে 'রাংকূট বনাশ্রম বৌদ্ধবিহার' লেখা রয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে এটিকে সবাই রামকোট বনাশ্রম নামেই জানে। পণ্ডিত গবেষক ও বিভিন্ন ইতিহাসবিদের মতে, এ বিহার সম্রাট অশোকের সময়ে বা তার পরবর্তী কালে প্রতিষ্ঠিত।

সতেরোটি ছোট বড় পাহাড় দ্বারা অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে বিহারটি পরিবেষ্টিত। এখানে বিক্ষিপ্তভাবে চারদিকে ছড়ানো বহু প্রাচীন ইটের টুকরো, বুদ্ধমূর্তির ভগ্নাবশেষ, পোড়ামাটির ফলক পাওয়া গেছে। বিহারটির চূড়ার উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট। এই অসাধারণ নির্মাণ কাজের জন্য বিহারটি অন্যতম বৌদ্ধ নিদর্শন হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে।
রামকোট বিহারের দক্ষিণ পাশের অন্য একটি ছোট পাহাড়ের স্তূপ থেকে একটি মূল্যবান শিলালিপি আবিষ্কৃত হয়। সেটি ডাকাত দল লুণ্ঠন করে নিয়ে যার। স্থানীয় জনসাধারণের বর্ণনা থেকে জানা যায়, এই মূল্যবান শিলালিপিটি টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্তূপটিও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে। জানা যায়, ১৯৩০ সালে জগৎচন্দ্র মহাথের নামে মিয়ানমারের (আগের বার্মা) এক ভিক্ষু শ্রীলংকায় একখানি শিলালিপি উদ্ধার করেন। সেই শিলালিপির বর্ণনা মতে এখানে অনুসন্ধান ও খননকার্য চালানো হয়। খননকাজের ফলে বৃহৎ সঙ্ঘারামটির ধ্বংসাবশেষ ও পাথরে নির্মিত সুদৃশ্য বৃহদাকার অভয়মুদ্রার একটি বুদ্ধমূর্তি আবিষ্কৃত হয়।
প্রাচীন এ বুদ্ধমূর্তিটি এখনও রামকোট বিহারে সংরক্ষিত আছে। বিহারের চারপাশে প্রচুর পরিমাণে স্থানীয় বেলে পাথরে নির্মিত ভাস্কর্যের ভগ্নাবশেষ পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে বুদ্ধের দুটি পদচিহ্ন (পূর্ণাকার) ও ভূমিস্পর্শ মুদ্রার বুদ্ধমূর্তিটি অন্যতম।
বিহারটির দক্ষিণ-পূর্বদিকে সবচেয়ে মূল্যবান ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্রত্নস্থলটি অবস্থিত। এ প্রত্নস্থলের কেন্দ্রস্থলটি আনুমানিক ৩০ ফুট উঁচু একটি টিলার ওপর অবস্থিত। গঠন প্রণালি বিবেচনা করে এটি একটি বিশাল সঙ্গারাম ছিল বলে ধারণা করা হয়। এই বিহারটি চট্টগ্রামের সঙ্গে আরাকান রাজ্যের সম্পর্ক ও সংস্কৃতি বিনিময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
বর্তমানে বিহারটিতে 'অরিয়ধর্ম' নামে একটি পাঠাগার আছে। গ্রন্থসংখ্যা ছয়শর অধিক। পাঠাগারটি সকলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত।
এ প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ একটি রম্যবতী নগরী ও বৌদ্ধধর্মের ঐতিহ্যময় গৌরবগাথার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনসাধারণ বিহারস্থ ভিক্ষু ও শ্রমণদের ব্যয়ভার সানন্দে বহন করেন। বিহারে অবস্থিত বৃহৎ বুদ্ধমূর্তিটি দর্শন করার জন্য দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক এখানে আসেন। খননকার্য চালানো হলে এখানে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নবস্তু আবিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুশীলনমূলক কাজ
রামকোট বিহার কোথায় অবস্থিত?
রামকোট বিহারের গঠনশৈলী বর্ণনা করো।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...